চেন্নাই বিমানবন্দরে কোবরা আতঙ্ক, স্যুটকেস খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ শুল্ক কর্মকর্তাদের!

চেন্নাই বিমানবন্দরে কোবরা আতঙ্ক, স্যুটকেস খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ শুল্ক কর্মকর্তাদের!

চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিদেশ থেকে নিয়ে আসা বিরল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি বড় চালান জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আসা দুটি আলাদা বিমানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪৯টি বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজগোখরা থেকে শুরু করে অদ্ভুত দর্শন সব সরীসৃপ ও বানর রয়েছে।

সুটকেসের ভেতরে বিষধর সাপের মেলা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে আসা এয়ার এশিয়া বিমানে এক যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী ওই যুবক ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তল্লাশির সময় তার বড় সুটকেসটি খুলতেই শিউরে ওঠেন কর্মকর্তারা। ভেতরে জ্যান্ত ও বিষধর সাপের স্তূপ পাওয়া যায়।

উদ্ধার করা প্রাণীদের তালিকায় ছিল:

  • ৬টি সাধারণ গোখরা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার জঙ্গলে পাওয়া যায় এমন ৮টি রাজগোখরা।
  • ১টি বিরল প্রজাতির লাল সাপ ও ইন্দোনেশিয়ার ২টিক ব্লু-টাং লিজার্ড।
  • ২টি জলাভূমির সাপ এবং ১০টি তক্ষক সদৃশ প্রাণী।

বেওয়ারিশ সুটকেসে অদ্ভুত হলুদ প্রাণী

অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের সব যাত্রী চলে যাওয়ার পর কনভেয়ার বেল্টে একটি সুটকেস দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ সেটি দাবি না করায় কর্মকর্তারা সুটকেসটি খোলেন। সেখানে পাওয়া যায় অত্যন্ত বিরল প্রজাতির হলুদ ও সাদা রঙের বানর, ভারতীয় পাম কাঠবিড়ালি এবং বিষাক্ত মাকড়সা। মোট ১৫টি বিরল প্রাণী ছিল ওই ব্যাগে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাচারকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

পাচারের পেছনের কারণ ও প্রভাব

আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধরণের বিরল ও বিষধর প্রাণীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মূলত শৌখিন সংগ্রহকারী এবং অবৈধ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য এগুলো পাচার করা হয়। সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া জনাকীর্ণ বিমানে এভাবে বিষধর সাপ বহন করা যাত্রীদের প্রাণের ঝুঁকির কারণ হতে পারত। ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব প্রাণীর কোনো বৈধ নথিপত্র না থাকায় সেগুলোকে পুনরায় উৎস দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা

কেন্দ্রীয় বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখার নির্দেশে উদ্ধারকৃত ৪৯টি প্রাণীকে এয়ার এশিয়া ও থাই এয়ারলাইনসের মাধ্যমেই মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত যুবক কোনো আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

একঝলকে

  • ঘটনাস্থল: চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
  • উদ্ধারকৃত প্রাণী: ৪৯টি (সাপ, বানর, মাকড়সা ও অন্যান্য সরীসৃপ)।
  • উৎস দেশ: মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।
  • আটক: চেন্নাইয়ের এক যুবক গ্রেফতার।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রাণীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *