চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির দাপুটে জয় লিভারপুলের সেমিফাইনালের স্বপ্ন এখন সুতোর ওপর ঝুলছে

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে প্যারিস সাঁ জারমাঁ বা পিএসজির কাছে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে লিভারপুল। ঘরের মাঠে লুই এনরিকের শিষ্যদের একতরফা দাপটের সামনে আর্নে স্লটের দল ছিল অসহায়। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল ও আক্রমণের ধার বজায় রেখে পিএসজি প্রমাণ করেছে কেন তারা এই টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।
শুরুতেই ছন্দপতন ও পিএসজির লিড
ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিটেই লিড নেয় পিএসজি। দেজিরে দুয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নিলে বল লিভারপুলের রায়ান গ্রাভেনবার্খের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক জর্জি মামার্দাশভিলির পক্ষে সেই লুপ করা বল ঠেকানো সম্ভব ছিল না। প্রথমার্ধের বাকি সময় উসমান ডেম্বেলে ও তাঁর সতীর্থরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি।
কাভারেৎস্কেলিয়ার লক্ষ্যভেদ ও লিভারপুলের ব্যর্থতা
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পিএসজির হাতে। জোয়াও নেভেসের বাড়ানো দুর্দান্ত এক পাস থেকে বল পান খাভিচা কাভারেৎস্কেলিয়া। তিনি ঠান্ডা মাথায় গ্রাভেনবার্খ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত যদি ডেম্বেলের শট পোস্টে না লাগত কিংবা ভিএআর-এর মাধ্যমে পিএসজির একটি পেনাল্টি বাতিল না হতো।
মাঠের কৌশল ও দলের অবস্থা
লিভারপুলের জন্য এই ম্যাচ ছিল চরম হতাশার। কোচ আর্নে স্লট অফ ফর্মে থাকা তারকা মহম্মদ সালাহকে মাঠেই নামাননি। চোট কাটিয়ে ফেরা আলেকজান্ডার ইসাককেও শুরুতে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণে লিভারপুল কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে পিএসজি ২০২৫ সাল থেকে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
- বিপাকে লিভারপুল: শেষ ছয় ম্যাচে এটি তাদের পঞ্চম হার। ম্যান সিটির কাছে ৪-০ গোলে হারের রেশ না কাটতেই এই বিপর্যয়।
- পিএসজির আধিপত্য: ইংরেজ দলগুলোর বিরুদ্ধে এটি পিএসজির টানা নবম জয়।
- অ্যানফিল্ডের চ্যালেঞ্জ: এর আগে গালাতাসারের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৪-০ গোলে জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল লিভারপুল। তবে এবার প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পিএসজি।