ছয় বছর পর ভারত-চীন সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক টানাপড়েন শেষে বড় ঘোষণা

দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপড়েন ও সীমান্ত সংঘাতের অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত ও চীন সম্পর্ক। প্রায় ছয় বছর পর দিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে চীন। ভারতে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং শনিবার নিশ্চিত করেছেন যে, চীনা বিমান সংস্থা ‘এয়ার চায়না’ এই পরিষেবা পরিচালনা করবে। ২০২০ সালে করোনা অতিমারী ও পরবর্তীকালে গালওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতির জেরে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।
চীনা মুখপাত্রের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল যাতায়াত সুগম করবে না, বরং ব্রিকস ও এসসিও-র মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সরাসরি ফ্লাইটের ফলে নাগরিকদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়া সাংহাই-দিল্লি রুটে পরিষেবা শুরু করেছিল এবং ইন্ডিগোও একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইজরায়েল-হামাস সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীন একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করা এবং চীনা নাগরিকদের জন্য ভারতের টুরিস্ট ভিসা চালুর পর এই বিমান পরিষেবা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে এক বড় মাইলফলক। বেজিংয়ে আয়োজিত এসসিও বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতির পর থেকেই এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।