ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত মালদহ, ‘দুর্দান্ত খেলা হবে’ হুঙ্কার দিয়ে লড়াইয়ের ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত মালদহ, ‘দুর্দান্ত খেলা হবে’ হুঙ্কার দিয়ে লড়াইয়ের ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে ফের একবার ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে হাতিয়ার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মালদহের বৈষ্ণবঘাটায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের শাসকদলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, আগামী দিনে বাংলাই দিল্লি দখলের পথ দেখাবে। মালদহের এই সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আসন্ন লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত তীব্র ও আকর্ষণীয়।

জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে সর্বনাশের পথে নিয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বিজেপি। জনগণের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া বা বছরে দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিকে তিনি ‘মিথ্যার ফুলঝুড়ি’ বলে কটাক্ষ করেন। মমতা বলেন, বিজেপিকে ক্ষমা করার কোনও জায়গা নেই এবং ভোট এলেই তারা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু করে।

এদিন মালদহের প্রার্থী চন্দনা সরকারের হয়ে ভোট চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও সরব হন। তাঁর মতে, কংগ্রেস ও বামপন্থীরা আসলে বিজেপির ‘দালাল’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে কেন্দ্র। ভোটের পর এই নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায় না বলেও তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। তাঁর হুঙ্কার, এবার ‘দুরন্ত খেলা’ হবে এবং বিরোধীদের জমি পুনরুদ্ধার করতে দেবে না তৃণমূল।

রাজ্যের নাগরিক পঞ্জি বা ভোটার তালিকার নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্কিত ‘SIR’ ইস্যুতেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ৪২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিলেও তাঁর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফলে ২২ লক্ষ নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যাদের নাম এখনও কাটা গিয়েছে, তাদের পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, আইনি বিষয়ে বিচারকদের উপর যেন কোনও চাপ সৃষ্টি বা আক্রমণ না করা হয়।

বর্ডার অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের ভয় দেখাতে পারে বা বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারে। এমনকি ফোন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট অফিসের তথ্য চাওয়া হচ্ছে বলেও তিনি সাধারণ মানুষকে সাবধান করে দেন। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের উত্তেজিত করে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি, যা বাংলার মানুষ রুখে দেবে।

শেষ পর্যন্ত দিল্লি দখলের বার্তাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদহ থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রচারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। কংগ্রেসকে তোপ দেগে তিনি বলেন, কংগ্রেস সঠিক সময় দায়িত্ব পালন করলে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারত না। এখন ভোটের সময় তারা প্রচার করতে আসলেও মানুষের পাশে থাকে না। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের মাটি থেকে লড়াইয়ের যে মেজাজ মমতা তৈরি করলেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *