ছাব্বিশের ভোটে বামেদের মাস্টারস্ট্রোক, ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি ও নারী সুরক্ষায় অভয়া বাহিনী
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2018/04/cpm-flag.jpg?w=640&resize=640,356&ssl=1)
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ১১ দফা প্রতিশ্রুতি সংবলিত নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে কর্মসংস্থান, জনকল্যাণমূলক ভাতা এবং নাগরিক পরিষেবাকেই মূল হাতিয়ার করা হয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত সামাজিক ভাতাগুলো বন্ধ করা হবে না, বরং সেগুলিকে আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
ইস্তেহারের সবচেয়ে বড় চমক বিদ্যুৎ পরিষেবায় জনমোহিনী ঘোষণা। জানানো হয়েছে, আয়কর দাতা নন এমন পরিবারগুলিকে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ২০০ ইউনিট পর্যন্ত মিলবে অর্ধেক দামে। নারী সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যজুড়ে ‘অভয়া বাহিনী’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিটি পরিবারে একজনের স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা এবং শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য প্রতি বছর এসএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামেরা।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। যুব সমাজকে উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োগ করে বিশেষ ভাতা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে ইস্তেহারে। ইস্তেহার প্রকাশ করে বিমান বসু কেন্দ্রের শাসক দল ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা বিজেপির হিন্দুত্ব আবেগের বিপরীতে বামপন্থীরা উন্নয়ন ও পরিষেবাকেই তাদের বিকল্প ইস্তেহারের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। মূলত সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি ফেরানো এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এখন বামেদের প্রধান রণকৌশল।