ছেলের আশায় চরম নৃশংসতা! দুই মেয়ে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জলে ডুবিয়ে মারল পাষণ্ড স্বামী

ছেলের আশায় চরম নৃশংসতা! দুই মেয়ে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জলে ডুবিয়ে মারল পাষণ্ড স্বামী

তেলঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের দুই নাবালিকা কন্যা ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সুইমিং পুলের জলে ডুবিয়ে খুনের অভিযোগে পুলিশ আজহারউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের ম্যারাথন জেরায় বেরিয়ে আসে আসল সত্য।

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, আজহারউদ্দিন ও ফারহাতের দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল এবং পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের আট ও ছয় বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ফারহাত তৃতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। আজহারউদ্দিনের প্রবল ইচ্ছা ছিল একটি পুত্র সন্তানের, কিন্তু তৃতীয় সন্তানটিও মেয়ে হতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি স্ত্রীকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।

ঘটনার দিন ওয়ারাঙ্গল-খাম্মাম জাতীয় সড়কের পাশে পরিবারের মালিকানাধীন একটি সুইমিং পুলে ফারহাত ও তাঁর মেয়েরা গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁদের রহস্যজনকভাবে জলে ভাসতে দেখা যায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেছিলেন এটি একটি দুর্ঘটনা, কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ একের পর এক অসঙ্গতি খুঁজে পায়।

তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি আজহারউদ্দিনের মোবাইল লোকেশন ও বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। মৃতার বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়। তাঁর দাবি ছিল, গর্ভপাত করাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করছে। ধৃত আজহারউদ্দিনকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। পুত্র সন্তানের লালসায় একটি সাজানো পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *