ছেলের টিকিটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অজিত মাহাতোর বড় সমঝোতা ফাঁস করলেন অভিষেক

পুরুলিয়ার জয়পুরে তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বিজেপি ও অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন, অজিত মাহাতো নিজের ছেলের রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছেন। অভিষেকের দাবি, পারিবারিক আধিপত্য বজায় রাখতেই বিজেপি এখানে বহিরাগত ও রাজনীতিতে স্বতন্ত্র পরিচয়হীন প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ অর্জুন মাহাতোকে ভূমিপুত্র ও তৃণমূল স্তরের লড়াকু নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্জুনের কোনো পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস নেই; তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থেকে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করে তিনি জানান যে ওই প্রার্থীর বাড়ি বাঘমুন্ডিতে এবং জয়পুরের মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনো আত্মিক যোগ নেই। বাবার পরিচয়ে রাজনীতি করা এই প্রার্থীর থেকে উন্নয়নের আশা করা বৃথা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এলাকার পূর্ববর্তী অবস্থার সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, পনেরো বছর আগে জয়পুরের অবস্থা ছিল শোচনীয়। বিদ্যুৎ গেলে ফেরার নাম থাকত না, কিন্তু আজ প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন পৌঁছেছে। এক সময় এই অঞ্চল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে মানুষ গভীর রাতেও নির্ভয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারেন। তৃণমূল সরকারের প্রচেষ্টায় এই আমূল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কুড়মি আন্দোলন ও ভাষা প্রসঙ্গে বিজেপিকে বিঁধে অভিষেক জানান, রাজ্য সরকার কুড়মি ভাইদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রাজ্য ক্যাবিনেট ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ তফশিলির সুপারিশ কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে এবং কুড়মালি ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অজিত মাহাতোরা এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব না হয়ে শুধুমাত্র নিজের ছেলের টিকিট নিশ্চিত করতে দিল্লির সঙ্গে ‘ডিল’ করতে ব্যস্ত ছিলেন।
বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, এলাকার বিজেপি বিধায়ক ও পাশের ঝালদার বিজেপি সাংসদ কেন্দ্রীয় সাহায্য নিয়ে কোনো রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে পারবেন কি না। তিনি সাফ জানান, গতবার এখানে তৃণমূলের বিধায়ক না থাকলেও সাধারণ মানুষ সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। বিজেপি যদি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।