ছোঁয়া ছাড়াই প্রাণ কাড়তে পারে এই বিষধর প্রাণীরা, সতর্ক না হলে বিপদ অবধারিত

ছোঁয়া ছাড়াই প্রাণ কাড়তে পারে এই বিষধর প্রাণীরা, সতর্ক না হলে বিপদ অবধারিত

প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের আক্রমণ করার জন্য আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসার প্রয়োজন নেই। সাধারণত বাঘ, সিংহ বা সাপের কথা ভাবলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সরাসরি আক্রমণের ছবি। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় এমন কিছু ক্ষুদ্র ও অদ্ভুত জীব আছে যারা কেবল দূর থেকেই আপনার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মশার নাম। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও মশা পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত। মশা সরাসরি কাউকে মেরে ফেলে না, বরং এটি ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও জিকার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করে। আপনার অজান্তেই এরা শরীরে বিষাক্ত জীবাণু প্রবেশ করিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সমুদ্রের তলদেশে থাকা পাফার ফিশ বা পটকা মাছও একইভাবে ভয়ংকর। বিপদের আভাস পেলে এরা নিজেদের শরীরকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলে। এই মাছের যকৃৎ ও ডিম্বাশয়ে ‘টেট্রোডোটক্সিন’ নামক এক তীব্র বিষ থাকে, যা সায়ানাইডের চেয়েও ১২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। জাপানে ‘ফুগু’ নামে পরিচিত এই মাছ রান্নার জন্য বিশেষ লাইসেন্সপ্রাপ্ত শেফদের প্রয়োজন হয়। সামান্য অসাবধানতায় এই বিষ শরীরে প্রবেশ করলে পক্ষাঘাত থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্থলভাগের অন্যতম বিষাক্ত প্রাণী হলো গোল্ডেন পয়জন ফ্রগ বা সোনালি বিষাক্ত ব্যাঙ। কলম্বিয়ার রেইনফরেস্টে পাওয়া এই উজ্জ্বল বর্ণের ব্যাঙটির ত্বকে ‘বাট্রাকোটক্সিন’ নামক মারাত্মক বিষ থাকে। এই বিষ এতটাই তীব্র যে এর সংস্পর্শে না এলেও বাতাসে থাকা কণা বা ত্বকের সামান্য ক্ষত দিয়ে এটি রক্তে মিশে গেলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এর বিষ সহ্য করার ক্ষমতা কেবল একটি বিশেষ প্রজাতির সাপের রয়েছে।

সাপের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত দংশনের কথা ভাবি, কিন্তু ‘স্পিটিং কোবরা’ বা বিষ উদ্গারকারী গোখরো সম্পূর্ণ আলাদা। এই সাপগুলো শিকার বা শত্রুর দিকে লক্ষ্য করে দূর থেকেই নিখুঁতভাবে বিষ ছুড়ে দিতে পারে। এদের প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষের চোখ। এই বিষ চোখে পড়লে তীব্র জ্বালা, প্রচণ্ড ব্যথা এবং স্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। যদিও চোখের বিষ সরাসরি মৃত্যুর কারণ হয় না, তবে এর প্রভাব অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। প্রকৃতির এই অদ্ভুত কিন্তু প্রাণঘাতী সৃষ্টিগুলো প্রমাণ করে যে আত্মরক্ষার জন্য কেবল শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয় না, বরং বিষই তাদের সেরা অস্ত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *