জঙ্গলমহল দখলে ভিন রাজ্যের নেতারাই বিজেপির ভরসা, আদিবাসী মহলে বাড়ছে বিভ্রান্তি

পঁচিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহল জয়ের লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিজেপি নেতাদের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ঝাড়গ্রামের বিনপুরসহ বিভিন্ন ব্লকে গত এক মাস ধরে প্রচার চালাচ্ছেন ভিন রাজ্যের এই নেতারা। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে যোগসূত্রহীন এই ‘বহিরাগত’ নেতাদের দাপটে জেলার নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ায় সংগঠনের অন্দরেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
প্রচারে এসে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের নেতারা ‘অঙ্গ-কলিঙ্গ’ জয়ের পর ‘বঙ্গ জয়ে’র যে হুঙ্কার দিচ্ছেন, তার প্রকৃত অর্থ স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অবোধ্য থেকে যাচ্ছে। ফলে এই তাত্ত্বিক প্রচার সাধারণ মানুষের মনে রেখাপাত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের একাংশের। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নকে অস্বীকার করে ভিন রাজ্যের নেতারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন এবং আদিবাসী তরুণদের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করছেন।
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় দল হিসেবে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে কাজে লাগানো হচ্ছে এবং তৃণমূল পরাজয়ের ভয়েই এসব রটাচ্ছে। তবে বিনপুরের মতো এলাকায় সরকারি প্রকল্পের সুফল এবং বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। বহিরাগত নেতাদের এই কৌশল জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না কি বুমেরাং হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।