জঙ্গলরাজের অবসান ও উন্নয়নের জোয়ারে ভোটের লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে তৃণমূল

কাটোয়ার মাধবীতলার ডালপুরির দোকান থেকে গঙ্গার পাড়— সর্বত্রই এখন শান্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ। একসময় এই প্রাচীন শহরটি কুখ্যাত দুষ্কৃতী জঙ্গল শেখের সন্ত্রাসে কার্যত জিম্মি ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তোলাবাজি, বোমাবাজি এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের আস্ফালন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তবে সেই অন্ধকার অধ্যায় কাটিয়ে এখন শহরে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে তাঁদের প্রাত্যহিক কাজ পরিচালনা করছেন, যা এই জনপদে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, জঙ্গলরাজের অবসান ঘটিয়ে শান্তি স্থাপনই তাদের অন্যতম বড় সাফল্য। যদিও বিরোধীদের মতে, ওই দুষ্কৃতী চক্রের বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল বর্তমান সরকারের আমলেই, তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পানীয় জলের সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রীবাটি ও সুদপুরের মতো গ্রামীণ এলাকার মানুষও। উন্নয়ন ও নিরাপত্তার এই মিশেলই আসন্ন নির্বাচনে শাসক দলের প্রধান হাতিয়ার।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাটোয়ায় তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রচারের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। বিজেপি ও কংগ্রেস এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে না পারায় নির্বাচনী ময়দান কার্যত শাসক দলের দখলেই রয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা সেতুর মতো কিছু অপূর্ণ প্রত্যাশা থাকলেও, জঙ্গলমুক্ত শান্ত পরিবেশ এবং নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের নিরিখে সাধারণ ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।