জট কাটেনি আলিমুদ্দিনে, আইএসএফ ইস্যুতে ফব ও আরএসপির বিদ্রোহে বিপাকে বামফ্রন্ট

জট কাটেনি আলিমুদ্দিনে, আইএসএফ ইস্যুতে ফব ও আরএসপির বিদ্রোহে বিপাকে বামফ্রন্ট

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে উত্তাল আলিমুদ্দিন। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ-কে ঘিরে বামফ্রন্টের অন্দরে গৃহযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। ভাঙড় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দলের বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ অভিযোগ তুলে মধ্যমগ্রাম এবং বাসন্তিতে আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করেছে ফ্রন্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি। শরিকি বিদ্রোহে যখন জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু দাবি করেছেন, আসন সমঝোতা সম্পূর্ণ।

বুধবার বিমান বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, বামফ্রন্ট, আইএসএফ এবং সিপিআইএমএল-এর মধ্যে বোঝাপড়া চূড়ান্ত। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আইএসএফ ৩০টি এবং সিপিআইএমএল ৮টি আসনে লড়ছে। বাকি ২৫২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে বামফ্রন্ট। এই তালিকার সিংহভাগ তথা ১৯৫টি আসনে লড়ছে সিপিআইএম। এছাড়া ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টি, সিপিআই এবং আরএসপি ১৬টি করে এবং অন্যান্য ছোট শরিকরা বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে এই অঙ্কে জল ঢেলে দিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লকের অবস্থান। মধ্যমগ্রাম আসনে আইএসএফ প্রার্থী দেওয়ায় পাল্টা নিতাই পালকে প্রার্থী করেছে তারা। রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে কোনো আপস নয়। ২০২১ সাল থেকেই তাঁরা আইএসএফ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির চাপে পড়েই তাঁরা এই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী দিতে বাধ্য হয়েছেন।

একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আরএসপি-ও। বাসন্তী কেন্দ্রে তারা তরুণ আইনজীবী সমর বিশ্বাসকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের অভিযোগ, আইএসএফ বিশ্বাসভঙ্গ করেছে এবং তৃণমূল-বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিতে বামেদের ব্যবহার করতে চাইছে। বামপন্থার পুনর্জাগরণের স্বার্থে জোট মেনে নিলেও, আইএসএফের বর্তমান ভূমিকা ফ্রন্টের কৌশলের পরিপন্থী বলেই মনে করছে আরএসপি নেতৃত্ব।

জটিলতা আরও বেড়েছে ক্যানিং পূর্ব আসনে তৃণমূল ত্যাগী আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করায়। এই সিদ্ধান্তে খোদ সিপিআইএম নেতৃত্বও যারপরনাই অসন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে একদিকে যখন বিমান বসু জোটের সাফল্যের দাবি করছেন, অন্যদিকে শরিকি বিদ্রোহে ফ্রন্টের ঐক্য বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। শেষ পর্যন্ত এই আসন সমঝোতা কতটা টিকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় দানা বাঁধছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *