জনসেবার নজির: বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন না দেশের দুই সাংসদ

লোকসভার সাংসদদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি একটি আরটিআই (RTI) আবেদনের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, বর্তমান লোকসভার ৫৪৩ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুইজন সাংসদ স্বেচ্ছায় তাঁদের বেতন গ্রহণ করছেন না। এই তালিকায় রয়েছেন হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের বিজেপি সাংসদ নবীন জিন্দাল এবং মণিপুরের ইনার মণিপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ বিমল আকোইজাম। লোকসভা সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪৮১ জন সাংসদ নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন এবং ২টি আসন শূন্য রয়েছে।
আর্থিক সংগতির দিক থেকে এই দুই সাংসদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকলেও জনসেবার লক্ষ্যে তাঁরা একই পথে হাঁটছেন। নবীন জিন্দালের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১,২৪১ কোটি টাকা হলেও বিমল আকোইজামের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা। তবে নবীন জিন্দাল এক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন; তিনি কেবল বেতনই নয়, সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য কোনো ভাতা বা সরকারি সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করেন না। ২,৫৭৫ কিলোমিটার ব্যবধানে অবস্থিত কুরুক্ষেত্র ও ইম্ফল কেন্দ্রের এই দুই জনপ্রতিনিধি সংসদীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আরটিআই-এর উত্তরে সংসদের সামগ্রিক আর্থিক চিত্রের পাশাপাশি ধনীতম সাংসদদের তথ্যও উঠে এসেছে। বর্তমানে লোকসভার সবচেয়ে ধনী সাংসদ হলেন টিডিপি-র চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৭০৫ কোটি টাকা। তাঁর পরেই রয়েছেন বিজেপির কোন্ডা বিশ্বেশ্বর রেড্ডি। উল্লেখ্য যে, বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ সাংসদ তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন, সেখানে জিন্দাল ও আকোইজামের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।