জন্মদাত্রীকে রাস্তায় ফেলে দিল গুণধর সন্তান, রেললাইনে প্রাণ দিতে যাওয়া বৃদ্ধাকে বাঁচালেন লোকো পাইলট

জন্মদাত্রীকে রাস্তায় ফেলে দিল গুণধর সন্তান, রেললাইনে প্রাণ দিতে যাওয়া বৃদ্ধাকে বাঁচালেন লোকো পাইলট

দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে তিল তিল করে বড় করা সন্তানই শেষ বয়সে কাল হলো জন্মদাত্রীর। নিজের গর্ভজাত সন্তান যখন বোঝা মনে করে মাঝরাস্তায় ফেলে রেখে যায়, তখন বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন এক বৃদ্ধা মা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনজনের এমন অমানবিক আচরণে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রেললাইনের ওপর, যেখানে অভিমানে নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কথায় আছে, ‘রাখে হরি মারে কে’। যখন রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়রাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন এক সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে রক্ষা করলেন সেই বৃদ্ধার প্রাণ।

রেললাইনে শুয়ে থাকা ওই বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে অসামান্য ক্ষিপ্রতার পরিচয় দেন ট্রেনের লোকো পাইলট। চলন্ত ট্রেনের সামনে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেন। লোকো পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধিতে একদম শেষ মুহূর্তে ট্রেনটি থেমে যায় এবং নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ওই অসহায় মা।

মানবিকতার এই নিদর্শন দেখে আপ্লুত প্রত্যক্ষদর্শীরা। যেখানে নিজের সন্তান মাকে রাস্তার ধুলোয় ফেলে গিয়েছে, সেখানে এক অচেনা রেলচালক দেবদূতের মতো এসে তাঁকে নতুন জীবন দান করলেন। এই ঘটনা বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে যেমন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, তেমনি লোকো পাইলটের মতো মানুষের জন্য আজও পৃথিবীতে যে সহমর্মিতা বেঁচে আছে, তা প্রমাণ করেছে।

বৃদ্ধাশ্রম বা অবহেলার শিকার হওয়া বয়স্কদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঘটনা সমাজকে এক কঠোর বার্তা দেয়। মা-বাবাকে শেষ বয়সে সেবা করা তো দূরের কথা, তাঁদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই প্রতিবেদন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জন্মদাত্রীকে সম্মান করা প্রতিটি সন্তানের প্রধান কর্তব্য।

বর্তমানে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রেল কর্তৃপক্ষ লোকো পাইলটের এই সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। সমাজ সচেতনতায় এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *