জন্মেছি বীরের মতো মরবও বীরের মতো, শান্তিপুরের সভা থেকে হুঙ্কার মমতার

জন্মেছি বীরের মতো মরবও বীরের মতো, শান্তিপুরের সভা থেকে হুঙ্কার মমতার

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার শান্তিপুরের জনসভা থেকে এক আবেগঘন ও কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর জন্ম হয়েছে বীরের মতো এবং মৃত্যুও হবে বীরের মতোই। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে একাধিকবার তাঁকে প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ভগবানের আশীর্বাদে তিনি বারবার রক্ষা পেয়েছেন। ১৯৯০ সালের ভয়াবহ আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, সেই ঘটনার পর থেকে তাঁর জীবনযাপন আমূল বদলে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে বা সব ধরনের খাবার খেতে পারেন না; এমনকি ভোর ৪টের আগে তাঁর চোখে ঘুম আসে না।

নির্বাচনী প্রচারের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মালতীপুরের ঘটনার অবতারণা করেন। তিনি জানান, তাঁর হেলিকপ্টারের সামনে একটি ড্রোন চলে এসেছিল, যা ধাক্কা খেলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এই ঘটনায় বিহারের তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই ড্রোনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন। টানা ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে বাইরে প্রচার চালানো এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি কোনো কিছুতেই ভয় পান না।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপির একনায়কতন্ত্রের প্রাচীর ভেঙে ফেলার সময় এসেছে। দাঙ্গা নয়, বরং ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা করেই এর বদলা নিতে হবে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে বহিরাগত ভোটার নিয়ে আসা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, বাংলা দখল করা তাদের পক্ষে আসাম্ভব। এবারের নির্বাচনকে ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তাঁর কাছে আসল ধর্ম হলো মানবতার ধর্ম এবং শান্তি রক্ষা করা। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *