জমি-জট ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে থমকে ‘উর্জা গঙ্গা’ প্রকল্পের হলদিয়া গ্যাস পাইপলাইন

জমি-জট ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে থমকে ‘উর্জা গঙ্গা’ প্রকল্পের হলদিয়া গ্যাস পাইপলাইন

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের পথে ফের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি-জট। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইলের (GAIL) উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘উর্জা গঙ্গা’ প্রকল্পের আওতায় হুগলির রাজারামবাটি থেকে হলদিয়া পর্যন্ত ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন তৈরির কাজ সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সম্পন্ন হয়নি। হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে জমি নিয়ে আইনি ও স্থানীয় জটিলতার কারণে থমকে আছে এই বৃহৎ পরিকাঠামো। রূপনারায়ণ নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপলাইন বসানোর কঠিন কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও, অবশিষ্ট অংশের জট না কাটায় রান্নার গ্যাস ও শিল্প-জ্বালানির বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত দূষণহীন জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া। যদিও রাজ্যের প্রথম অংশের কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় অংশটি হলদিয়া ইন্ডিয়ান অয়েল শোধনাগারে পৌঁছানোর পথে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের পরেও অনেক ক্ষেত্রে জমি ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। পাশাপাশি, শহর এলাকায় ছোট পাইপলাইন বা ‘সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন’ (CGD) নেটওয়ার্ক গড়তে গিয়ে বিভিন্ন পুরসভার প্রশাসনিক অনুমোদনের ফাইলও আটকে থাকছে। ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি এবং পিএনজি পরিষেবা প্রসারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে গেইল আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বেঙ্গল গ্যাস, ইন্ডিয়ান অয়েল ও আদানি গ্যাসের মতো সংস্থাগুলো বণ্টনের দায়িত্বে থাকলেও, পরিকাঠামোগত এই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই জট না কাটালে দূষণহীন জ্বালানির সুফল থেকে সাধারণ মানুষ ও শিল্প সংস্থাগুলো বঞ্চিতই থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *