জমি দখল মামলায় ফের ইডি দফতরে দেবাশিস কুমার, ভোটের মুখে সিজিও কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় বার হাজিরা

জমি দখল সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ফের ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন রাসবিহারীর বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী দেবাশিস কুমার। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার আগেই তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতরে পৌঁছে যান। এর আগে গত সোমবারও এই একই মামলায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে দলের প্রভাবশালী নেতার এই ঘনঘন হাজিরায় রাজ্যের শাসক শিবির কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও, দেবাশিস কুমার নিজে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। গত সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, এই তদন্তের কোনও প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না। শুক্রবার দ্বিতীয়বার হাজিরা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কেন ডাকা হয়েছে তা ভেতরে গেলেই বুঝতে পারব।”
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, জমি দখলের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রায় ১৬-১৭টি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। গত শনিবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের রেশ ধরেই দেবাশিস কুমারকে তলব করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এদিন নতুন করে কোনও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেননি বিধায়ক।
উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে নেমে গত বুধবার দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে নগদ ও সোনা মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা এবং একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও সম্পত্তির নথি উদ্ধার করা হয়। বিরোধীদের দাবি, ধৃত ব্যবসায়ী দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রাসবিহারী কেন্দ্রে আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ। সেখানে বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন দেবাশিস কুমার। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। ভোটের ঠিক আগে এই কেন্দ্রীয় তদন্তের গতিবিধি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে শেষ পর্যন্ত তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।