জয়পুরে পানীয় জলে নর্দমার বিষ মিশে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া আক্রান্ত শয়ে শয়ে শিশু ও বৃদ্ধ

রাজস্থানের জয়পুরে পানীয় জলের পাইপলাইনে নর্দমার দূষিত জল মিশে গিয়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যসংকট তৈরি হয়েছে। শহরের সুশীলপুরা এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানীয় জলের লাইনে নর্দমার নোংরা জল ঢুকে পড়ায় বমি, তীব্র পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন শয়ে শয়ে বাসিন্দা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে, যা ইন্দোরের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে আবারও উসকে দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি এলাকায় রাস্তা তৈরির কাজের সময় মাটির তলার পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ফাটা অংশ দিয়েই নর্দমার দূষিত জল নিয়মিত সরবরাহ লাইনে মিশছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, স্থানীয় সরকারি ডিসপেনসারিতে গত তিন দিনেই ১৫০-এর বেশি রোগী একই উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এখন চড়া দামে বাইরে থেকে জল কিনে অথবা ট্যাঙ্কারের ভরসায় দিন কাটাচ্ছেন, যা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক গোপাল শর্মা এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতি ও বিকল্প জলের ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও, প্রাক্তন বিধায়ক প্রতাপ সিং খাচরিয়াবাস একে চরম প্রশাসনিক অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রাস্তা খোঁড়ার অপরিকল্পিত কাজের জেরেই সাধারণ মানুষকে আজ এই বিপদে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও স্বাস্থ্য দপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ট্যাঙ্কারের জল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
আধুনিক নগরোন্নয়নের দাবি সত্ত্বেও সুরক্ষিত পানীয় জলের অভাব জয়পুরের বাসিন্দাদের প্রাণ সংশয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুশীলপুরার অলিগলিতে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অসুস্থ মানুষের আর্তনাদ। নড়বড়ে জল পরিষেবা এবং নর্দমা উপচে পড়ার ফলে তৈরি হওয়া এই নরকীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। এলাকার বাসিন্দারা কেবল দ্রুত মেরামতিই নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক নিশ্চয়তা দাবি করছেন।