জাতিগত জনশুমারি কি বিশ বাঁও জলে? মোদী সরকারের নতুন পদক্ষেপে তোলপাড় রাজনীতি!

জাতিগত জনশুমারি কি বিশ বাঁও জলে? মোদী সরকারের নতুন পদক্ষেপে তোলপাড় রাজনীতি!

ভারতে জাতিগত গণনা এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মোদী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিগত গণনাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, সরকার জনশুমারির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে চাইছে।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধন এনে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন। সরকার দাবি করছে যে জাতিগত গণনার ফলাফল হাতে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে। কিন্তু কংগ্রেস এই যুক্তির বিরোধিতা করে বিহার ও তেলেঙ্গানার উদাহরণ সামনে এনেছে। জয়রাম রমেশের মতে, যেখানে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ওই রাজ্যগুলো সফলভাবে জাতিগত সমীক্ষা শেষ করতে পেরেছে, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিলম্ব করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ ও কৌশলী অবস্থান

সংবিধানের ৩৩৪-এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন জনশুমারি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরই কেবল মহিলাদের জন্য সংসদ ও বিধানসভায় আসন সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা। কংগ্রেসের আশঙ্কা, সরকার এই অনুচ্ছেদে এমনভাবে সংশোধন আনতে চাইছে যাতে জাতিগত গণনার প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা যায়। বিরোধীদের মতে, এটি সরকারের একটি বড় মাপের রাজনৈতিক কৌশল বা ‘প্রতারণা’।

তথ্য ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

জাতীয় পর্যায়ে জাতিগত গণনা নিয়ে সরকারের আগের অবস্থানগুলোকেও কংগ্রেস জনসমক্ষে তুলে ধরেছে:

  • ২০২১ সালের জুলাই মাসে সরকার লোকসভায় জানিয়েছিল যে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ছাড়া অন্য কোনো জাতির গণনা না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী এই দাবির সমালোচনা করে একে ‘শহুরে নকশাল’ মানসিকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
  • ২০২৫ সালের এপ্রিলে হঠাৎ করেই সরকার ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী জনশুমারিতে জাতিগত গণনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আসন্ন সংসদ অধিবেশন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

আগামী সপ্তাহে সংসদের বাজেট অধিবেশনের বর্ধিত বৈঠকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে পারে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮১৬ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার কথা থাকলেও বিরোধীরা মনে করছেন, জাতিগত গণনা ছাড়া এই আসন বিন্যাস আসাম্পূর্ণ থেকে যাবে।

সব মিলিয়ে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও কেন ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে, সেই প্রশ্নই এখন দিল্লির মসনদকে চাপে রাখছে।

একঝলকে

  • জাতীয় স্তরে জাতিগত গণনা বিলম্বিত করার জন্য সরকারকে সরাসরি দায়ী করছে কংগ্রেস।
  • ৩৩৪-এ অনুচ্ছেদের সংশোধনী নিয়ে মোদী সরকারকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দিয়েছেন জয়রাম রমেশ।
  • বিহার ও তেলেঙ্গানা মডেলের উদাহরণ দিয়ে দ্রুত জাতিগত গণনার দাবি জানানো হয়েছে।
  • সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৮১৬-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
  • ২০২৭ সালের মধ্যে জনশুমারির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *