জালুকবাড়িতে হিমন্তের বিরুদ্ধে লড়া কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশার মোট সম্পত্তি কত

আসামের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নিয়োগ। জালুকবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এই কংগ্রেস প্রার্থী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিদিশার অভিযোগ, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর বিদেশের সম্পত্তির কথা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন। এই আইনি লড়াইয়ের আবহে এখন জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে, হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বিদিশার নিজের সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত?
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, কংগ্রেস নেত্রী বিদিশা নিয়োগের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০.৩২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে তাঁর কাছে নগদ ২ লক্ষ টাকা রয়েছে এবং ২১ লক্ষ টাকার একটি গাড়ি আছে। এছাড়া ৫.৮৬ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার তাঁর মালিকানাধীন। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীর কাছে নগদ ১.৫০ লক্ষ টাকা এবং ১ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা মিলিয়ে মোট ৪.২৮ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে। হলফনামা থেকে আরও জানা গেছে যে, এই দম্পতির কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা জমি নেই।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে বিদিশা নিয়োগ ২০১৩ সালে উত্তর লখিমপুর কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তিনি তুলনামূলকভাবে নবীন। মাত্র তিন বছর আগে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এবং এর আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। জালুকবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে এটিই তাঁর জীবনের প্রথম নির্বাচনী লড়াই।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০০১ সাল থেকে টানা জালুকবাড়ি কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী রোমেন চন্দ্র বরঠাকুরকে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। সেই নির্বাচনে হিমন্ত পেয়েছিলেন ১,৩০,৭৬২টি ভোট। এই বিশাল ব্যবধানের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও এবার বিদিশা নিয়োগ তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি কংগ্রেসের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় পালটা পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনকি ভূঁইয়া শর্মা ইতিমধ্যেই ক্রাইম ব্রাঞ্চে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। দুই পক্ষের এই পালটাপালটি অভিযোগে আসামের নির্বাচনী ময়দান এখন সরগরম।