জাল নথিতে বেঙ্গালুরুতে বসবাস ও চাকরি, সীমান্ত পার হওয়ার সময় পুলিশের জালে বাংলাদেশি দম্পতি

শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির বাংলাবান্ধা সীমান্তে অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক বাংলাদেশি দম্পতি ও তাঁদের নাবালিকা কন্যা। অভিবাসন দফতরের তৎপরতায় ফাঁস হয়েছে এই পরিবারের দীর্ঘ আট বছরের অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আজম আলি বাংলাদেশের মঠেরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। ২০১৬ সালে চিকিৎসার অজুহাতে সপরিবারে ভারতে প্রবেশ করলেও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁরা আর নিজ দেশে ফিরে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে ভারতেই আস্তানা গেড়েছিলেন তাঁরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত আজম আলি বেঙ্গালুরুতে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে জাল নথিপত্র তৈরি করে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কাজ শুরু করেন। বিগত আট বছর ধরে ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তাঁরা সেখানেই বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করতেই বাধে বিপত্তি। অভিবাসন দফতরের অফিসারদের কাছে জমা দেওয়া পাসপোর্টে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ জেরার মুখে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে তাঁরা আসলে বাংলাদেশের নাগরিক এবং জাল নথির সাহায্যে ভারতে ছিলেন।
সীমান্তে ধরা পড়ার পর অভিবাসন দফতর ওই দম্পতি ও তাঁদের নাবালিকা কন্যাকে গ্রেফতার করে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ রবিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পেশ করেছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না এবং কীভাবে তাঁরা জাল পাসপোর্ট ও নথি জোগাড় করলেন, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।