জিএমটি বদলে কি এবার মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম, বড় প্রস্তাব কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনিচ মিন টাইম বা জিএমটি-র ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের সময় নির্ধারিত হয়ে আসছে। তবে এবার সেই আন্তর্জাতিক সময় গণনা পদ্ধতিতে বড়সড় বদলের প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। জিএমটি-র পরিবর্তে উজ্জয়িনী শহরকে কেন্দ্র করে ‘মহাকাল স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ চালুর দাবি তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি উজ্জয়িনীতে আয়োজিত ‘মহাকাল: দ্য মাস্টার অফ টাইম’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই সময় গণনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উজ্জয়িনীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সময় নির্ধারণের ভারতীয় ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সাহসী প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু ও সন্তরা। অল ইন্ডিয়া সন্ত সমিতি মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় যথার্থতা তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, ঔপনিবেশিক আমলের প্রভাব কাটিয়ে ভারতের নিজস্ব জ্ঞানচর্চার ধারাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার এটিই সঠিক সময়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যাতেও উজ্জয়িনী শহরের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে এই শহরের ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় সূর্য এবং সময়ের অবস্থানের নিরিখে এর ভৌগোলিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অযোধ্যার সাধু সমাজও মনে করেন, মহাকালের শহর হিসেবে উজ্জয়িনীই বিশ্বের সময় নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য।
তাত্ত্বিকভাবে জিএমটি বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান বিশ্ব পরিচালিত হলেও, ভারতীয় সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে এই নতুন প্রস্তাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর জাতীয় স্তরে সময় গণনার মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার পথ প্রশস্ত হলো।
ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এই প্রস্তাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। দেশের আধ্যাত্মিক এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে এই পরিবর্তন কতটা গ্রহণীয় হবে, এখন সেটাই দেখার।