জীবিত থাকতেই নিজের শ্রাদ্ধ করলেন বৃদ্ধ, নিমন্ত্রণ পেলেন গ্রামের ২০০০ মানুষ

জীবিত থাকতেই নিজের শ্রাদ্ধ করলেন বৃদ্ধ, নিমন্ত্রণ পেলেন গ্রামের ২০০০ মানুষ

এক অকল্পনীয় এবং অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল অরাইয়ার লক্ষণপুর গ্রাম। নিজের মৃত্যুর আগেই নিজের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন রাকেশ যাদব নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি। সাধারণত মৃত্যুর পর নিয়ম মেনে পরিবার বা স্বজনরা পারলৌকিক কাজ করলেও, রাকেশবাবু রীতিমতো কার্ড ছাপিয়ে নিজের শ্রাদ্ধভোজে নিমন্ত্রণ জানালেন প্রায় দুই হাজার মানুষকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাকেশ যাদব অবিবাহিত এবং তাঁর ভাইরা ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন। এক ছোট ভাই অসুস্থতায় প্রাণ হারান এবং অন্যজন জমি বিবাদের জেরে খুন হন। একমাত্র বোনও অবিবাহিত হওয়ায় রাকেশবাবুর দেখাশোনা করার মতো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কেউ নেই বললেই চলে। একাকী জীবনে তাঁকে একটিই চিন্তা তাড়া করে বেড়াত—তাঁর মৃত্যুর পর পারলৌকিক ক্রিয়া বা শ্রাদ্ধ শান্তি করার মতো কেউ থাকবে কি না। খরচের কথা ভেবে আত্মীয়রা পিছিয়ে আসতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি জীবিত অবস্থায় এই উদ্যোগ নেন।

নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে রাকেশ যাদব শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পুজোর আয়োজন করেন এবং ভাণ্ডারার ব্যবস্থা করেন। আমন্ত্রিতদের জন্য তালিকায় ছিল ডাল-পুরি ও সবজি। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের আত্মীয়দের মধ্যেও সেই আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছিল। ভাণ্ডারার দিন সকালে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পর অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। রাকেশবাবুর এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মনে যেমন বিস্ময় জাগিয়েছে, তেমনি একাকীত্বের এক করুণ চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছে।

গ্রামবাসীদের একাংশ মনে করছেন, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং নিঃসঙ্গ মানুষের নিজের অস্তিত্ব রক্ষার এক আপ্রাণ চেষ্টা। প্রবীণ এই ব্যক্তির অকাল শ্রাদ্ধের আয়োজন নিয়ে জেলাজুড়ে চর্চা চললেও, রাকেশবাবুর দাবি—নিজের কাজ নিজে সম্পন্ন করতে পেরে তিনি এখন মানসিকভাবে শান্তিতে আছেন। কোনো আত্মীয়ের ওপর ভরসা না রেখে নিজের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি জীবদ্দশাতেই সেরে রাখলেন লক্ষণপুরের এই বাসিন্দা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *