জুরাসিক পার্ক এবার ফ্যাশন দুনিয়ায়! কাঁধে ঝুলবে ডাইনোসরের চামড়ার ব্যাগ, দাম কত জানেন?

প্রাগৈতিহাসিক যুগের সেই দানবীয় টি-রেক্স বা টাইরানোসরাস রেক্স এখন আর কেবল সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক বিজ্ঞান ও ফ্যাশন প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে বিশ্বের প্রথম ল্যাব-গ্রোন ডাইনোসরের চামড়ার হ্যান্ডব্যাগ। বিলাসবহুল এই ব্যাগটি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা ফ্যাশন দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞানের ম্যাজিকে ফিরল প্রাগৈতিহাসিক ছোঁয়া
এই ব্যাগটি সরাসরি কোনো মৃত ডাইনোসরের চামড়া দিয়ে তৈরি হয়নি। বিজ্ঞানীরা টি-রেক্সের জীবাশ্ম বা ফসিল থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন ব্যবহার করে গবেষণাগারে এই বিশেষ চামড়া তৈরি করেছেন। ভিএমএল (VML), দ্য অর্গানয়েড কো ম্পা নি এবং ল্যাব-গ্রোন লেদার লিমিটেড যৌথভাবে এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি সম্পন্ন করেছে। মূলত প্রাচীন ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই চামড়া ফ্যাশন এবং বিজ্ঞানের এক অনন্য সংমিশ্রণ।
নকশায় আভিজাত্য ও প্রযুক্তির ছোঁয়া
টিল বা নীলচে-সবুজ রঙের এই হ্যান্ডব্যাগটি সাজানো হয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান উপকরণ দিয়ে। এর কারুকার্যে ব্যবহার করা হয়েছে:
- খাঁটি রুপোর সূক্ষ্ম কাজ।
- দামী কালো হিরে বা ব্ল্যাক ডায়মন্ড।
- ল্যাবরেটরিতে তৈরি টি-রেক্স কোলাজেন চামড়া।
বর্তমানে ব্যাগটি আমস্টারডামের ‘আর্ট জু’ মিউজিয়ামে একটি বিশেষ খাঁচার ভেতর টি-রেক্সের কঙ্কালের নিচে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনী আগামী মে মাস পর্যন্ত চলবে।
নিলামে আকাশচুম্বী দাম
প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরই এই ব্যাগটি নিলামে তোলা হবে। কর্তৃপক্ষ এর প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৫ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি। দুষ্প্রাপ্য কোলাজেন এবং হিরে-রুপোর ব্যবহারের কারণেই এর দাম এত বেশি ধরা হয়েছে।
ফ্যাশন জগতের নতুন দিশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ হ্যান্ডব্যাগ নয়। বরং এটি ভবিষ্যতে সাধারণ চামড়ার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব এবং ল্যাব-তৈরি বিলাসবহুল পণ্যের নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মৃত পশুর চামড়া ব্যবহার না করে বিজ্ঞানের মাধ্যমে এমন উদ্ভাবন পরিবেশ সংরক্ষণেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
একঝলকে
- পণ্যের নাম: ল্যাব-গ্রোন টি-রেক্স হ্যান্ডব্যাগ।
- প্রযুক্তি: ডাইনোসরের ফসিল থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন ব্যবহার।
- উপাদান: কালো হিরে, খাঁটি রুপো এবং ল্যাব-তৈরি চামড়া।
- স্থান: আমস্টারডামের ‘আর্ট জু’ মিউজিয়াম।
- আনুমানিক মূল্য: ৫ কোটি টাকার বেশি (৫ লক্ষ ডলার)।
- নিলামের সময়: মে মাসে প্রদর্শনী শেষে।