জ্বালানি মজুত নীতিতে স্বস্তিতে চিন, পশ্চিম এশিয়ার তেল সঙ্কটেও নিশ্চিন্ত বেজিং

জ্বালানি মজুত নীতিতে স্বস্তিতে চিন, পশ্চিম এশিয়ার তেল সঙ্কটেও নিশ্চিন্ত বেজিং

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভারতসহ এশিয়ার একাধিক দেশে পেট্রোপণ্য ও রান্নার গ্যাসের আকাল দেখা দিলেও, বিশেষ রণনীতির কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চিন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় বেজিং এই ধাক্কা অনেক বেশি দৃঢ়ভাবে সামলে নিতে সক্ষম।

চিনের এই স্বস্তির নেপথ্যে রয়েছে তাদের বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডার। বর্তমানে দেশটির হাতে প্রায় ১২০-১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১.৫ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও, আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হলেও এই মজুত ভাণ্ডার দিয়ে চিন আগামী ৮০-৯০ দিন অনায়াসেই চলতে পারবে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই শি জিনপিং সরকার এই মজুতকরণ নীতি গ্রহণ করেছিল।

নিজেদের শক্তি বাড়াতে চিন গত এক বছরে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ক্ষমতা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারা আরও ১০০ কোটি ব্যারেল তেল রাখার সক্ষমতা তৈরি করেছে এবং ১১টি নতুন মজুতকেন্দ্র গড়ে তুলছে। পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কিনে নিজেদের ভাণ্ডার পূর্ণ করছে বেজিং, যা ভবিষ্যতে মলাক্কা প্রণালীতে কোনো অবরোধ তৈরি হলেও তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *