জ্বালানি সংকটেও ভারতের ম্যাজিক! ১৮ কোটি সিলিন্ডার বিলিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল কেন্দ্র

জ্বালানি সংকটেও ভারতের ম্যাজিক! ১৮ কোটি সিলিন্ডার বিলিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল কেন্দ্র

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমদানিনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শিল্পক্ষেত্র—সব মহলেই স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিকল্প রুট এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

দেশীয় চাহিদার স্থিতিশীলতা

ভারতের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্ট্রেট অব হরমুজের মতো স্পর্শকাতর রুট দিয়ে এই আমদানির বড় অংশ সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় এই রুট নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎসের সন্ধান করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৮ কোটিরও বেশি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ডেলিভারির সময়সীমা তিন দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিল্পক্ষেত্রে বাণিজ্যিক গ্যাসের ছাড়পত্র

শুধু গৃহস্থালি নয়, শিল্প উৎপাদন বজায় রাখতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য এবং পলিমারের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আগে এই কারখানাগুলো যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করত, এখন তার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তারা বরাদ্দ পাবে। তবে শিল্পক্ষেত্রগুলোর জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ টন এলপিজি সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্র।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন যে, যেসব কারখানায় বিশেষ কাজের জন্য এলপিজি ব্যবহার করা অপরিহার্য, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম, হেভি ওয়াটার, প্যাকেজিং এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।

একঝলকে

  • ১ মার্চ ২০২৬ থেকে ১৮ কোটির বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।
  • প্রতিদিন গড়ে ৬০ লক্ষ গ্রাহক এলপিজি পরিষেবা পাচ্ছেন।
  • সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় কমিয়ে ৩ দিনে আনা হয়েছে।
  • শিল্পক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি।
  • ওষুধ, ইস্পাত ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ।
  • আন্তর্জাতিক রুট নিয়ে সংকট কাটাতে বিকল্প উৎস ও দেশীয় উৎপাদনে জোর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *