জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব: উৎপাদন স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময়ের আশঙ্কা ওপেকের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় একাধিক তেলক্ষেত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। এই পরিস্থিতিতে ওপেক (OPEC) ভুক্ত দেশগুলি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত করে উৎপাদনকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী আংশিক অচল হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওপেক সীমিত পরিকাঠামো ব্যবহার করেই উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে ভারত এই পরিস্থিতির সুবিধা কতটা পাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বিকল্প সরবরাহ পথ খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে সদস্য দেশগুলি, তবে তা বাস্তবায়ন করা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকট সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে তৎপর কেন্দ্র। ইতিমধ্যে ১৫ হাজার ৪০০ টন এলপিজি নিয়ে একটি জাহাজ ভারতের উদ্দেশে রওনা দিলেও ১৬টি জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। সরকারের দাবি, বাণিজ্যিক এলপিজির ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে এবং বিকল্প হিসেবে পাইপ গ্যাসের সংযোগ বাড়ানো হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতি নির্ধারিত হবে বলে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে।