জ্বালানি সংকটে কিউবার পাশে থাকার অঙ্গীকার রাশিয়ার, ১ লক্ষ টন তেল পৌঁছে দিল মস্কো

রাশিয়া আবারও কিউবার সাথে তাদের দীর্ঘদিনের মজবুত ও কৌশলগত সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে চরম জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া কিউবাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক মহলে কিউবাকে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত আন্তর্জাতিক পরিবহন ও লজিস্টিক ফোরামে রুশ পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বন্ধুত্বের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কিউবা রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ এবং এই কঠিন সময়ে তাদের প্রতি মস্কোর সমর্থন অপরিবর্তিত থাকবে। কিউবার সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবহন মন্ত্রী নিকিতিন জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে, রাশিয়া সর্বদা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই কাজ করে। রুশ পতাকাবাহী জাহাজগুলো কিউবায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং এক্ষেত্রে জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বৈশ্বিক অর্থনীতির মৌলিক নীতি অনুযায়ী এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি রুশ ট্যাঙ্কার ‘আনাতোলি কোলোদকিন’ প্রায় ১ লক্ষ টন তেল নিয়ে কিউবায় পৌঁছেছে। মানবিক সহায়তা হিসেবে পাঠানো এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিপূর্বে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় হাভানায় জ্বালানি পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছিল।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে আমেরিকার নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার তেল আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। ওয়াশিংটন কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর কর আরোপের হুমকি দিলেও মস্কো তাদের মানবিক সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কিউবার জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভরসা।
সামগ্রিকভাবে, কিউবার বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে রাশিয়ার এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করল। মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে মস্কোর এই মানবিক সরবরাহ কিউবার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলেও রাশিয়ার এই ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।