জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে চাকা, বন্ধ স্কুল-কলেজ! ঢাকার অনুরোধে কতটা নরম হবে নয়া দিল্লি?

জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে চাকা, বন্ধ স্কুল-কলেজ! ঢাকার অনুরোধে কতটা নরম হবে নয়া দিল্লি?

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের অধিকাংশ পেট্রল পাম্প এখন সম্পূর্ণ তেল শূন্য। বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে আমদানিতে টান পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জনজীবনে। এই চরম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে বুধবার একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সচিব এবং উপদেষ্টাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা অন্যান্য খাতের খরচ কমিয়ে জ্বালানি আমদানিতে অর্থ সংস্থানের উপায় খুঁজছেন। তবে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভারত। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্য়েই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

নয়া দিল্লি ঢাকার এই অনুরোধকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এখন বেশ স্পর্শকাতর। ভারত সরকার নিজেই দেশে জ্বালানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারির কথা ভাবছে। এই অবস্থায় প্রতিবেশীকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে ভারত কতটা নমনীয় হবে, তা নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এদিকে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে, যা নতুন দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি সরকারের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি করে তেল মজুত করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ বাড়ি থেকে হাড়ি, বালতি ও ড্রাম নিয়ে পেট্রল পাম্পে ভিড় করছেন। কোথাও কোথাও মাঝরাতে বন্ধ পাম্প ভেঙে তেল লুটের ঘটনাও ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। তৈরি পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে অন্যান্য কলকারখানা ও আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যানবাহনের চাপ কমাতে অবিলম্বে বড় আকারের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। যদিও এর ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবুও জ্বালানি সাশ্রয় করাকেই এখন মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মকুব ও খাল খননের মতো জনপ্রিয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এই জনহিতকর কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের মাঝেই জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট সরকারকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা ঋণের জন্য তদ্বির শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *