জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত পরিষেবা, মেনুতে কাটছাঁট ও রেস্তোরাঁ বন্ধের উপক্রম

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত পরিষেবা, মেনুতে কাটছাঁট ও রেস্তোরাঁ বন্ধের উপক্রম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ভারতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যান্টিন পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে অনেক নামী রেস্তোরাঁ তাদের মেনু থেকে ৮০ শতাংশ পদ বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও বিকল্প হিসেবে কয়লা বা কাঠের উনুন ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কোথাও গ্যাসের অভাবে সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

চেন্নাইয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হায়দরাবাদের বিখ্যাত বিরিয়ানি হাউস থেকে শুরু করে দিল্লি হাইকোর্টের ক্যান্টিন—সর্বত্রই রান্নার গ্যাসের অভাবে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এমনকি অযোধ্যার ‘রাম রসোই’ এবং রেলের ক্যাটারিং পরিষেবাও এই সংকটের কবলে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক সংস্থাকে ইন্ডাকশন চুলা বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভোপাল ও চণ্ডীগড়ের মতো শহরগুলোতে সিলিন্ডারের জন্য ডিলারদের সামনে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস ও সিএনজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেল মন্ত্রক উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দিলেও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের আকাল কাটতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই জ্বালানি সংকটের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খাদ্য শিল্পের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *