জ্বালানি সংকটে ব্রিটেনজুড়ে অগ্নিমূল্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিপাকে প্রবাসী ভারতীয়রা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ব্রিটেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিষেবায়। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে শেষকৃত্যের খরচ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমান্তরালে অন্তিম সংস্কারের এই ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানি সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি
ব্রিটেনে শবদেহ দাহ করার জন্য মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজির ওপর নির্ভর করা হয়। দেশটির অধিকাংশ শ্মশানে এখনও বৈদ্যুতিক চুল্লির ব্যবহার সীমিত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে দাহ করার খরচে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটে শ্মশান কর্তৃপক্ষ পরিষেবা মূল্য বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও আঞ্চলিক প্রভাব
পিউর ক্রিমেশন নামের একটি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রিটেনে প্রতিটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বর্তমান গড় খরচ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৩ পাউন্ড। গত জানুয়ারি মাস থেকে এই খরচ প্রায় ৬১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির হার সব জায়গায় সমান নয়:
- লন্ডন: গত তিন মাসে লন্ডনে শেষকৃত্যের খরচ বেড়েছে ১১৬ পাউন্ড, যা প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি।
- স্কটল্যান্ড: এখানে খরচ বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
হিন্দু পরিবার ও প্রবাসীদের ওপর প্রভাব
ব্রিটেনে বসবাসরত হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে শবদাহ একটি ধর্মীয় আবশ্যকতা। পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিন চুল্লি না থাকায় এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা চেপেছে। ধর্মীয় রীতি মেনে শেষ বিদায় জানানো এখন অনেক পরিবারের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিকল্প পথের সন্ধান ও আনুষ্ঠানিকতা বর্জন
বিমা সংস্থা ‘সান লাইফ’-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে খরচের চাপে মানুষ এখন সাশ্রয়ী উপায়ের দিকে ঝুঁকছে। অনেক পরিবার বিশাল শোকসভা বা জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে সাধারণ মানের শবদাহ বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে লন্ডনের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি শেষকৃত্যে কোনো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছে না। খরচে লাগাম টানতেই এই ‘ডিরেক্ট ক্রিমেশন’ বা আনুষ্ঠানিকতাহীন শবদাহের প্রবণতা বাড়ছে।