জ্বালানি সংকট ও আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: খাদের কিনারায় ভারতের অর্থনীতি ও বিদেশনীতি

জ্বালানি সংকট ও আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: খাদের কিনারায় ভারতের অর্থনীতি ও বিদেশনীতি

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে ভারত এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। দেশের আমদানিকৃত গ্যাসের ৯০ শতাংশ এবং তেলের ৪০ শতাংশ আসে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে; দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাসপাতালেও রোগীদের খাবারে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং জ্বালানির লাগামহীন দামবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভারতের এই বর্তমান অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যক্তিগত রসায়ন-নির্ভর বিদেশনীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রাতিষ্ঠানিক কূটনীতির বদলে মোদি সরকারের বিশেষ কিছু রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার নীতি ভারতকে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা করেছে। প্রতিবেশী দেশ চীন আগাম কৌশল অবলম্বন করে জ্বালানি মজুত রাখলেও, ভারত সেই সুযোগ হারিয়েছে। ইরানের সাথে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও সময়োচিত কূটনৈতিক পদক্ষেপের অভাবে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজগুলো বাধার মুখে পড়ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

শেয়ার বাজারে ক্রমাগত ধস এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের পুঁজি তুলে নেওয়ার ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা পথে বসতে চলেছেন। কর্মহীনতার এই আবহে জ্বালানি সংকট রেস্তোরাঁ ও পরিষেবা শিল্পে কোটি কোটি মানুষের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। একদিকে আমেরিকার শুল্কের চাপে রাশিয়ার সস্তা তেল বন্ধ হওয়া, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভারতকে সংকটে ফেলেছে। বর্তমান এই বহুমুখী বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি কতটা কার্যকর হবে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করা যাবে, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *