জ্বালানি সংকট ও ট্রাম্পের নীতিতে অন্ধকারে কিউবা, মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দ্বীপরাষ্ট্র

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অন্ধকারে ডুবেছে কিউবা। দেশটির জাতীয় গ্রিড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সরবরাহে বাধা দেওয়ার নীতি এই সংকটকে চরমে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জ্বালানির তীব্র ঘাটতির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো একে একে অচল হয়ে পড়ছে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য দেশের ওপর ওয়াশিংটনের চাপের ফলে কিউবা বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করতে পারছে। এর ফলে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ। অনেক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না, যা একবিংশ শতাব্দীতে এক চরম মানবিক সংকটের প্রতিফলন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী মন্তব্য বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। কিউবাকে ‘দখল’ করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছেন বলে সমালোচকদের দাবি। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এই পরিস্থিতিকে ‘বাহ্যিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। একদিকে বিদ্যুৎহীন অন্ধকার, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের ‘ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার’—সব মিলিয়ে এক গভীর আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি।