জ্বালানি সংকট রুখতে বাংলাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ: অফিসের সময় হ্রাস ও দ্রুত বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দেশের সমস্ত শপিংমল, দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট ৩০ শতাংশ হ্রাসসহ আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহন ও কম্পিউটার কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিয়ে বা অন্য সামাজিক উৎসবেও কোনো প্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল-কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
দেশের একমাত্র তেল শোধনাগারে মজুত তলানিতে নামায় সরকার আন্তর্জাতিক মহলে জরুরি যোগাযোগ শুরু করেছে। সিঙ্গাপুর ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৭ কোটি মানুষের চাহিদার ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ মানুষকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।