জ্বালানি সঙ্কটে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, সরকারের পাশে থাকার বার্তা শাহিদ আফ্রিদির

চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের জেরে দেশটিতে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের জনগণকে শান্ত থাকার এবং সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আফ্রিদি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় পাকিস্তান এখনও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বর্তমান বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। একজন দেশপ্রেমিক পাকিস্তানি হিসেবে সরকারের এই কঠিন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সরকার নতুন করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার। নতুন দর অনুযায়ী, পাকিস্তানে ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লিটার ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বেড়ে লিটার প্রতি ৪৫৮.৪০ টাকা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
চলমান এই জ্বালানি সংকটের ছায়া পড়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) উপরেও। সংকটের কারণে টুর্নামেন্টের পরিধি সীমিত করে কেবল করাচি ও লাহোরে ম্যাচগুলো আয়োজন করা হচ্ছে। এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকেও বিরত ছিল। এত সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয় স্বার্থে শাহিদ আফ্রিদির মতো ব্যক্তিত্বের সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জনমনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।