টাকার বিনিময়ে মুসলিম ভাবাবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ হুমায়ুনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ফিরহাদ

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে চর্চিত নাম আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল।
ভাইরাল ভিডিওর মূল দাবি ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি যেকোনো মূল্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপের জন্য তাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ভিডিওতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত কথা হচ্ছে।
ফিরহাদ হাকিমের কড়া হুঁশিয়ারি
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম একটি সংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ করেন। তার অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
- ধর্মীয় আবেগের অবমাননা: ফিরহাদ হাকিমের দাবি, টাকার বিনিময়ে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে খেলা করছেন হুমায়ুন। একে তিনি ‘পাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
- বিজেপির হাত: মেয়রের অভিযোগ, বিজেপি সরাসরি সুবিধা করতে না পেরে এখন পিছন দিক দিয়ে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। এই কাজে হুমায়ুন কবীরকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- ভোট বয়কটের ডাক: ফিরহাদ স্পষ্টভাবে জানান যে, বাংলার মুসলিম সমাজ এত বোকা নয় যে তারা নিজেদের ইমান টাকার কাছে বিক্রি করে দেবে। তিনি সাধারণ মানুষকে এই ‘কুলাঙ্গার’ নেতাকে একটিও ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভিডিওতে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর আর্থিক লেনদেনের তথ্য
ভাইরাল ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গেছে যে, তিনি অন্তত ৮০ থেকে ৯০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে জয়লাভ করবেন। তার পরিকল্পনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা খরচ করার কথা বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের একটি নীল নকশা তিনি তৈরি করেছেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবরি ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আবেগ নিজেদের দিকে টানার কৌশলও তিনি আলোচনা করেছেন বলে ভিডিওতে দেখা গিয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
হুমায়ুন কবীর অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, এই পুরো ভিডিওটিই ভুয়ো এবং এডিট করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী:
১. ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিজেপির কোনো নেতার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
২. যদি কেউ ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে পারে, তবে তিনি এই নির্বাচনে তার সমস্ত প্রার্থীদের সরিয়ে নেবেন এবং নিজে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন।
৩. এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি ২,০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তৃণমূলের দাবি এবং হুমায়ুনের পাল্টা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।