টাকা আছে, বিলাসিতা আছে, নেই শুধু শান্তি! ১৯ তলার ফ্ল্যাটকে কেন ‘নরক’ বলছেন এই নারী?

দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিতে আকাশচুম্বী বহুতল ভবনে বসবাস করা অনেকের কাছেই আভিজাত্য ও স্বপ্নের বিষয়। তবে স্বপ্ন আর বাস্তবের ব্যবধান যে কতটা প্রকট হতে পারে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক নারীর ভিডিও তা নতুন করে সামনে এনেছে। ১৯ তলায় একটি সুসজ্জিত ফ্ল্যাটে থেকেও তিনি তার জীবনকে ‘নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আধুনিক নাগরিক জীবনের বিড়ম্বনা
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল ভবনের ১৯ তলার বাসিন্দা এক নারী তার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিচ্ছেন। বাইরে থেকে ভবনটিকে অত্যন্ত চাকচিক্যময় মনে হলেও ভেতরের পরিস্থিতি ভিন্ন। যান্ত্রিক শব্দ, ক্রমাগত বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এবং লিফটের ওপর অতিরঞ্জিত নির্ভরতা তার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তার মতে, পর্যাপ্ত অর্থ এবং বিলাসিতা থাকা সত্ত্বেও মানসিক শান্তির অভাব এখানে প্রবল।
উচ্চবিত্ত জীবনের অন্তরালের সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, মেগাসিটির হাই-রাইজ অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে থাকার কিছু সাধারণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়:
- বিচ্ছিন্নতা: বিশাল ভবনের শত শত মানুষের ভিড়েও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের অভাব মানুষকে মানসিকভাবে একা করে দেয়।
- প্রকৃতি থেকে দূরত্ব: মাটির ছোঁয়া থেকে দূরে থাকায় এবং কৃত্রিম পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাটানোয় একঘেয়েমি তৈরি হয়।
- নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক ত্রুটি: লিফট বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় সামান্য ত্রুটি দেখা দিলে ১৯ তলা বা তার ওপরের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, আধুনিক স্থাপত্য আমাদের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিলেও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি উপেক্ষা করছে। আবার অনেকের মতে, নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে থাকতে গিয়ে মানুষ নিজেদের এক বদ্ধ খাঁচায় বন্দি করে ফেলছে।
একঝলকে
- দিল্লির এক বহুতল ভবনের ১৯ তলার বাসিন্দার যন্ত্রণার ভিডিও ভাইরাল।
- বিলাসিতা ও অর্থ থাকা সত্ত্বেও শান্তিহীন জীবনের কথা জানিয়েছেন ওই নারী।
- মেগাসিটির হাই-রাইজ কালচারের নেতিবাচক দিকগুলো সামনে এসেছে।
- প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা ও যান্ত্রিকতাকেই মানসিক অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।