টাকা দিয়েও মিলছে না জ্বালানি উত্তর শহরতলিতে অটো সংকটে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

টাকা দিয়েও মিলছে না জ্বালানি উত্তর শহরতলিতে অটো সংকটে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল উত্তর শহরতলির পরিবহণ ব্যবস্থায়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় চরম সংকটে পড়েছে স্থানীয় অটো পরিষেবা। বেলঘরিয়া, ব্যারাকপুর, টিটাগড় থেকে শুরু করে মধ্যমগ্রাম ও বারাসাতের বিস্তীর্ণ এলাকায় রান্নার গ্যাস বা ‘কাটা গ্যাস’ এবং এলপিজি-র তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ রুটেই অটোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর শহরতলির সিংহভাগ অটো এলপিজি চালিত। এতদিন অনেক চালকই কেজি দরে চড়া দামে ‘কাটা গ্যাস’ কিনে অটো চালাতেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বাজারে সেই গ্যাস কার্যত উধাও। আগে যে গ্যাস ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত, এখন ১২০ টাকা দিতে চাইলেও তা মিলছে না। ফলে নিরুপায় হয়ে চালকদের ছুটতে হচ্ছে দূরবর্তী এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে।

বুধবার ডানলপ-ব্যারাকপুর রুটের এক অটোচালক জানান, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও টিটাগড়ে গ্যাস পাননি, পরে বাধ্য হয়ে বেলঘরিয়ায় এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। বেলঘরিয়া সিএসটিসি বাস ডিপো সংলগ্ন এলপিজি পাম্পে এখন অটোর লাইন বিটি রোড পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দৈনিক এলপিজি-র চাহিদা ৪ হাজার লিটার থেকে বেড়ে ১০ হাজার লিটার ছাড়িয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় জোগান অত্যন্ত সীমিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের উপক্রম ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণেই এই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতির সমাধান না হলে উত্তর শহরতলির জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *