টানা ৫ ঘণ্টা পুকুরের নিচে! পদ্মফুলের ডাঁটা হলো অক্সিজেন পাইপ, চোরের কাণ্ডে থ পুলিশ

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাল বাস্তবের এক ঘটনা। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য এক কৌশল অবলম্বন করলেন এক চোর। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা একটি পুকুরের জলের নিচে লুকিয়ে ছিলেন অভিযুক্ত, যা দেখে খোদ পুলিশ আধিকারিকরাও অবাক হয়ে গেছেন।
পলায়নের অভিনব কৌশল এবং পদ্মফুলের ডাঁটা
জবলপুরের বেলখেড়া এলাকায় চুরির ঘটনার পর পুলিশ যখন অভিযুক্ত কমলেশকে ধাওয়া করে, তখন সে বাঁচার জন্য কোনো উপায় না দেখে পাশে থাকা একটি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পুকুরটি পদ্মফুলে ভর্তি ছিল। পুলিশ পুকুরের চারপাশ ঘিরে ফেললেও দীর্ঘক্ষণ তার কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, জলের নিচে নিজেকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রেখে শ্বাস নেওয়ার জন্য কমলেশ একটি পদ্মফুলের ফাঁপা ডাঁটা বা নল ব্যবহার করছিল। ডাঁটার এক প্রান্ত ছিল তার মুখে এবং অন্য প্রান্তটি জলের উপরে রাখা ছিল, যা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না।
৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও ধরাশায়ী অভিযুক্ত
পুলিশ হাল না ছেড়ে টানা পাঁচ ঘণ্টা পুকুরের পাড়ে অপেক্ষা করে। কোনো নড়াচড়া না দেখে এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জাল ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। জালে আটকে পড়ে জলের নিচে লুকিয়ে থাকা কমলেশ। তবে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা জলের নিচে থাকার ফলে সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হেফাজতে নেয়।
অপরাধ প্রবণতা ও প্রভাব বিশ্লেষণ
এই ঘটনাটি অপরাধীদের উন্নত ও সৃজনশীল পালানোর কৌশলের দিকে ইঙ্গিত দেয়। লোকগাথা বা পৌরাণিক কাহিনীতে জলের নিচে লুকিয়ে থাকার যে সব কৌশলের কথা শোনা যায়, তা বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে বিরল। তবে উন্নত প্রযুক্তি বা পেশাদার বুদ্ধির বদলে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে শুধুমাত্র প্রশাসনের ধৈর্য ও স্থানীয়দের সহায়তার কারণে। বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ চলছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: বেলখেড়া, জবলপুর, মধ্যপ্রদেশ।
- অভিযুক্তের নাম: কমলেশ।
- লুকানোর কৌশল: পুকুরের জলের নিচে পদ্মফুলের ডাঁটা দিয়ে শ্বাস গ্রহণ।
- সময়কাল: টানা ৫ ঘণ্টা জলের নিচে অবস্থান।
- পরিণতি: অসুস্থ অবস্থায় গ্রেফতার ও মামলা দায়ের।