টার্গেট সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক? এসআইআরের আড়ালে ২৩ লক্ষ ভোটার বাতিলের গেরুয়া ছক!

সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলায় লক্ষাধিক নাম বাদ, ভোট কাটার অভিযোগে সরব তৃণমূল
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষত উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং দুই ২৪ পরগনার মতো সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলাগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পাঁচটি জেলায় ইতিমধ্যে প্রায় ২৩ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩৫ লক্ষাধিক ভোটারের নাম বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। এই ঘটনাকে বিজেপির সাজানো ছক হিসেবে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত নির্বাচনে এই ১০৫টি আসনের মধ্যে ৯১টিতেই বড় ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমান ভোটার তালিকার এই রদবদল সেই জয়ের ব্যবধানকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, কেন শুধুমাত্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ‘অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট’ বা বিচারাধীন তালিকা এত দীর্ঘ হচ্ছে, তা নিয়ে কমিশনের কাছে কোনো সদুত্তর মেলেনি। এই বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
সিইও দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ইআরও এবং এইআরও-দের গাফিলতির কারণেই নথিপত্র আপলোডে সমস্যা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা আড়াল করতেই রাজ্যের আধিকারিকদের বলির পাঁঠা করার চেষ্টা চলছে। ভোটার সঠিক নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ভোট ব্যাংক মূলত তৃণমূলের দিকে ঝোঁকার কারণেই এমন সমীকরণ তৈরি করা হয়েছে বলে শাসকদলের পাল্টা দাবি।