টিকিট না পেয়ে তৃণমূলে বিদ্রোহ, চোখের জলে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরলেন খোকন মিয়াঁ

টিকিট না পেয়ে তৃণমূলে বিদ্রোহ, চোখের জলে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরলেন খোকন মিয়াঁ

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর কোচবিহারে বড়সড় ভাঙন ধরল শাসক শিবিরে। টিকিট না পেয়ে এবং দলের বর্তমান কর্মপদ্ধতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ঘনিষ্ঠ নেতা খোকন মিয়াঁ। শনিবার দুপুরে কোচবিহার জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ধীরাজ কুমার সাহু ও প্রদীপকুমার বালমুচুর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে পুরনো দলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে কংগ্রেস প্রার্থী করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

দলত্যাগের সময় খোকন মিয়াঁ অভিযোগ করেন, তৃণমূল এখন আর রাজনৈতিক দল নেই, বরং একটি ‘কর্পোরেট সংস্থা’য় পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের জন্য যারা দিনের পর দিন লড়াই করেছেন এবং জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, সেই পুরনো কর্মীদের বর্তমান নেতৃত্ব কোনো সম্মান দিচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বা বিনয়কৃষ্ণ বর্মণের মতো প্রবীণ নেতাদের টিকিট না দিয়ে বহিরাগত বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রার্থী করার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই নেতার প্রস্থানে জেলায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে।

অন্যদিকে, খোকনের এই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব। জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ জানান, ক্ষোভ থাকলেও তা দলের ভেতরে আলোচনা করে মেটানো উচিত ছিল। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরিন্দ্রনাথ বর্মণ খোকন মিয়াঁকে বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে স্বীকার করলেও সকলকে দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভোটের মুখে এই দলবদল কোচবিহারের নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *