ট্যাক্স নিয়মে বড় বদল, ফর্ম ১৫জি এবং ১৫এইচ-এর বদলে আসছে নতুন ফর্ম ১২১

আয়কর জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। আয়কর আইন ২০২৫-এর অধীনে এখন থেকে প্রচলিত ১৫জি (15G) এবং ১৫এইচ (15H) ফর্মের পরিবর্তে চালু হতে চলেছে নতুন ‘ফর্ম ১২১’। করদাতাদের টিডিএস (TDS) সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সরল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যাঁদের বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে, তাঁদের টিডিএস কাটা থেকে অব্যাহতি পেতে এই ফর্ম জমা দিতে হবে।
নতুন এই নিয়মের সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বয়সের ভেদাভেদ দূর হওয়া। আগে ৬০ বছরের কম বয়সীদের জন্য ১৫জি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ১৫এইচ ফর্ম নির্ধারিত ছিল। এখন থেকে বয়সের সীমাবদ্ধতা সরিয়ে সব বয়সের যোগ্য করদাতার জন্য একটিই সাধারণ ফর্ম ‘১২১’ কার্যকর হবে। এর ফলে করদাতাদের আর আলাদা ফর্ম বেছে নেওয়ার ঝক্কি পোহাতে হবে না, যা পুরো কর ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করে তুলবে।
একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) এবং নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা এই ফর্ম ১২১ পূরণ করার সুযোগ পাবে। তবে কোনো অনিবাসী ভারতীয় (NRI) বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই ফর্মটি ব্যবহার করতে পারবে না। করদাতা এই ফর্মের মাধ্যমে স্ব-ঘোষণা প্রদান করবেন যে, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষে তাঁর আনুমানিক আয় শূন্য। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থা তাঁর আয়ের ওপর টিডিএস কাটবে না।
ব্যাংক জমার সুদ, লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড, ভাড়ার টাকা, মিউচুয়াল ফান্ড থেকে আয়, বিমার কমিশন এবং পিএফ-এর টাকা তোলার ক্ষেত্রে টিডিএস বাঁচাতে এই ফর্ম ব্যবহার করা যাবে। তবে মনে রাখতে হবে, ফর্ম ১২১ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। যদি কেউ এই ফর্ম জমা না দেন, তবে তাঁর আয়ের ওপর সাধারণ নিয়মেই টিডিএস কাটা হবে। পরবর্তী সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে ওই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন করদাতা।
ডিজিটাল বা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই এই নতুন ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। গ্রাহকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টালে এই বিবরণ আপলোড করতে হবে। ভুল তথ্য প্রদান বা করযোগ্য আয় গোপন করে এই ফর্ম জমা দিলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই করদাতাদের সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।