ট্রান্সজেন্ডার সংশোধন আইন ২০২৬ চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা

ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রণীত নতুন সংশোধন আইনটি এখন আইনি লড়াইয়ের মুখে। ‘ট্রান্সজেন্ডার পারসনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চ এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২২ জুলাই।
আইনি চ্যালেঞ্জ ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন
আইনজীবী ড. চন্দ্রেশ জৈন এই আবেদনটি দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের এই সংশোধনী ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে। ২০১৯ সালের মূল আইনে যে অধিকারগুলো দেওয়া হয়েছিল, নতুন সংশোধনীর ফলে তা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবেদনের প্রধান ভিত্তি হলো ব্যক্তির নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের স্বাধীনতা, যা ভারতীয় সংবিধানের সাম্য ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকারি হস্তক্ষেপ ও পরিচয় সংকট
নতুন সংশোধনীতে একজন ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি তদন্ত এবং শংসাপত্র বা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া যুক্ত করা হয়েছে। মামলাকারীর মতে, লিঙ্গ পরিচয় একজন ব্যক্তির মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কোনো মেডিকেল পরীক্ষা বা সরকারি যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় হতে পারে না। এই বাধ্যতামূলক শংসাপত্র প্রক্রিয়ার ফলে ট্রান্সজেন্ডাররা পরিচয়পত্র তৈরি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের অবমাননা
পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের সেই ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আদালত স্পষ্ট করেছিল যে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয় বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মামলাকারীর দাবি, ২০২৬ সালের এই সংশোধন সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশনার মূল সুরকে আঘাত করে। এতে লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ায় এই সম্প্রদায়ের মানুষ সামাজিক বর্জন ও বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
একঝলকে
- দিল্লি হাইকোর্টে ট্রান্সজেন্ডার সংশোধন আইন ২০২৬-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ।
- কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চেয়ে আদালত কর্তৃক নোটিশ জারি।
- শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২২ জুলাই।
- সরকারি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিকে ব্যক্তির গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ।
- সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের আলোকে লিঙ্গ পরিচয়ের স্ব-নির্ধারণী অধিকার রক্ষার দাবি।