ট্রাম্পকে বিশাল বড় ধাক্কা ব্রিটেনের! হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে আমেরিকার পাশে নেই লন্ডন, উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি

ট্রাম্পকে বিশাল বড় ধাক্কা ব্রিটেনের! হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে আমেরিকার পাশে নেই লন্ডন, উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হোর্মুজ প্রণালী’ অবরোধ করার যে পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করেছিলেন, তাতে সরাসরি আসাম্মতি জানিয়েছে ব্রিটেন। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের এমন অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কৌশলে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা ও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান

সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টা ব্যাপী ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ না করার অনড় অবস্থানের কথা জানানো হলে আলোচনা ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার পরপরই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান যে, পালটা ব্যবস্থা হিসেবে হোর্মুজ প্রণালী অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

কেন বেঁকে বসল ব্রিটেন

হোর্মুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ সম্পন্ন হয়। ব্রিটেন মনে করছে, এই পথটি অবরোধ করলে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ফলে আমেরিকার এই সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সরাসরি মানা করে দিয়েছে লন্ডন। তারা বরং ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সাথে মিলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে আমেরিকার সাথে তাদের মতভেদ স্পষ্ট এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

আমেরিকার যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা জো সেস্টাক এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তার মতে, আমেরিকা এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় আমেরিকা মাত্র এক দিনেই চার বছরের সমপরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। এই বিশাল অস্ত্রের ভাণ্ডার পুনর্গঠন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

ব্রিটেনের এই সরে দাঁড়ানোর ফলে আমেরিকা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা বোধ করছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যদি আমেরিকা একতরফাভাবে হোর্মুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

একঝলকে

  • হোর্মুজ প্রণালী অবরোধে আমেরিকার প্রস্তাবে ব্রিটেনের না।
  • ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ।
  • বিশ্ব অর্থনীতিতে ধসের আশঙ্কায় ফ্রান্সের সাথে জোটবদ্ধ হচ্ছে ব্রিটেন।
  • এক দিনে বিশাল পরিমাণ মিসাইল খরচ করায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক।
  • একতরফা অবরোধে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রবল আশঙ্কা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *