ট্রাম্পের আলটিমেটামে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ও ইজরায়েলিদের জন্য নরক হবে

ট্রাম্পের আলটিমেটামে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন ও ইজরায়েলিদের জন্য নরক হবে

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং নতুন চুক্তিতে আসার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না আসে, তবে দেশটির ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বলে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো চাপ প্রয়োগ করে তাদের হারানো সম্ভব নয়।

ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের পক্ষ থেকে এই হুমকির কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। ইরানি সেনার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংঘাত বাড়লে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য নরকে পরিণত হবে। ইরানকে পরাজিত করার বিভ্রম শেষ পর্যন্ত শত্রুদের এক গভীর জলাভূমিতে নিমজ্জিত করবে।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ১০ দিনের সময়সীমা উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে সেই সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি দাবি করেছেন, হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে, এরপরই ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ভয়াবহ হামলা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার জন্য তেহরানের ওপর এই প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই ট্রাম্পের অবস্থানে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে একের পর এক ধ্বংসাত্মক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

বর্তমান এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বিশাল লাফ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *