ট্রাম্পের ইরান নীতিতে ফাটল গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলসী গ্যাবার্ডের

মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসী গ্যাবার্ডের একটি লিখিত সাক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গ্যাবার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পর ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করেনি। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবির সরাসরি বিরোধী, যেখানে ইরানকে একটি “আসন্ন পারমাণবিক হুমকি” হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। ফলে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে এখন খোদ প্রশাসনের অন্দরেই তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, আত্মরক্ষার খাতিরে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে শত্রুপক্ষের পক্ষ থেকে “তাৎক্ষণিক হুমকি” থাকা আবশ্যক। কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত না মেলায় ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আইনি সংকটের মুখে পড়েছে। ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নারের জেরার মুখে গ্যাবার্ড এই স্পর্শকাতর তথ্য অস্বীকার করতে পারেননি, যা প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন বিপদ ছিল না এবং এই যুদ্ধ “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (IAEA) ইরানে পরমাণু বোমা তৈরির নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা ও পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।