ট্রাম্পের চরম ডেডলাইন শেষ আজই, মঙ্গলবারই কি ধ্বংস হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট?

ট্রাম্পের চরম ডেডলাইন শেষ আজই, মঙ্গলবারই কি ধ্বংস হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম বিন্দুতে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকেই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, ইরান যদি অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্বাভাবিক না করে, তবে আমেরিকার নিশানায় থাকবে তেহরানের প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই সম্ভাব্য অভিযানের নাম ট্রাম্প দিয়েছেন ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান পিছু না হটলে তাদের চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে কারাজ শহরের বিশাল ‘বি১ ব্রিজ’ ধ্বংস হওয়ায় ইরান যে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, এবারের হুমকি সেই স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে।

এদিকে আমেরিকার এই হুমকিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, জনপরিষেবা কেন্দ্রে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। পালটা জবাবে তারা জানিয়েছে, হামলা হলে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। গত ১০ দিনে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি হয়নি।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই সংঘাত অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ বিশ্ব তেল বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইরান এই পথ অবরুদ্ধ রাখলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প কি সত্যিই মিসাইল হামলা শুরু করবেন নাকি এটি কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *