ট্রাম্পের চরম ভুল নাকি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা? সমীক্ষায় ফাঁস হওয়া তথ্যে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এখন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সিদ্ধান্তে আমেরিকার অভ্যন্তরেই তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
জনমতের রায়: ট্রাম্পের পাশে নেই আমজনতা
১২৮২ জন মার্কিন নাগরিকের ওপর চালানো এক অনলাইন সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ ইরানের ওপর এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অর্থাৎ প্রতি চারজন মার্কিনীর মধ্যে তিনজনই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি এই হামলার বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ এখনো কোনো স্পষ্ট মতামত দেননি।
দলের ভেতরেই কোণঠাসা প্রেসিডেন্ট
অবাক করার মতো বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজের রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও এই যুদ্ধ নিয়ে ফাটল ধরেছে। সমর্থনকারী ২৭ শতাংশের মধ্যে ৫৫ শতাংশ রিপাবলিকান হলেও, ১৩ শতাংশ রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এই হামলার তীব্র বিরোধী। প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষের মতে, ট্রাম্প সামরিক শক্তির অপব্যবহার করছেন।
মার্কিন সেনাদের মৃত্যু ও রাজপথে বিক্ষোভ
হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে যে, ইরানের পাল্টা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই খবরের পর ওয়াশিংটন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখে ইজরায়েলের সঙ্গে এই বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন ট্রাম্প।
অর্থনৈতিক মন্দার কালো মেঘ
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। সাধারণ মার্কিনীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশ চরম অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। যদিও কিছু ইরানি প্রবাসী খামেনেইর মৃত্যুসংবাদে উল্লাস প্রকাশ করেছেন, কিন্তু অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এই যুদ্ধের অবসান চান। রাজনৈতিক মহলের মতে, ইরানের ওপর এই হামলা এখন ট্রাম্পের জন্য এক মস্ত বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।