ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পরেই কি পিছু হঠছে ইরান? ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু জোর তৎপরতা

ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পরেই কি পিছু হঠছে ইরান? ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু জোর তৎপরতা

ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম হুঁশিয়ারির পরই মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল। সূত্রের খবর, যুদ্ধ এড়াতে আপাতত ৪৫ দিনের জন্য একটি প্রাথমিক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো দেশগুলো দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরানে চরম আঘাত হানা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও প্রধান সেতুগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত আটটার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে তেহরানকে চরম মূল্য দিতে হবে। এই ডেডলাইন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি থাকায় মধ্যস্থতাকারীরা এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

আলোচনার টেবিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম পর্যায়ে ৪৫ দিন যুদ্ধ বন্ধ রেখে স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করা হবে। তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। এর আগেও আমেরিকার পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তাতে কর্ণপাত করেনি। উল্টে তেহরান নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে। আমেরিকার এই মরণকামড় দেওয়ার হুমকির মুখে ইরান শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে, নাকি যুদ্ধের জন্য পাল্টা প্রস্তুতি নেবে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে জট খোলার চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দুই পক্ষকে একাসনে বসানো বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ট্রাম্পের রণংদেহি মেজাজ আর অন্যদিকে ইরানের জেদ—এই দ্বন্দ্বে ৪৫ দিনের সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে এখনও প্রবল অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা গোটা বিশ্বের নজর থাকবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *