ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে পালটা যুদ্ধের হুমকি দিল ইরান

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ইরানকে যে চরম সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার বদলে মার্কিন প্রশাসনের সামনে উলটো শর্ত রেখেছে ইরান। ইরানি প্রেসিডেন্সি দপ্তরের কর্মকর্তা মেহেদি তাবাতাবায়ি জানিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে হবে। প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণের ফি বা শুল্কের একটি অংশ ইরানকে প্রদান করলে তবেই এটি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ট্রাম্পের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশ অন্ধভাবে পালন করার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আমেরিকার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলকে ছারখার করে দেবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন পরিবারগুলোর ওপরও পড়বে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হামলার নির্দিষ্ট সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইরান ইতিবাচক সাড়া না দিলে ভয়াবহ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে হুমকি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে তাদের পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উগ্র মেজাজ বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তবে যুদ্ধের দামামার মধ্যেই ট্রাম্প একটি চুক্তির ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। তিনি জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। যদিও সেই আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের খনিজ তেল সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। বিশ্ববাজারের তেলের যোগান স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এই সংঘাতের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।