ট্রাম্পের চরম হুমকির মুখে ভারত ও রাশিয়ার দ্বারস্থ ইরান
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে ফোন করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশদ আলোচনা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হয়েছে। এই সংকটে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং যুদ্ধ রুখতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আব্বাস আরাঘচি ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানের পরমাণু কেন্দ্র, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আবেদন জানান। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সেনাবাহিনী ও জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যে কোনো হামলার প্রভাব বিশ্বশান্তির ওপর পড়বে।
ভারত ছাড়াও রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বলেছেন আরাঘচি। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইরান বিরোধী তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য তিনি রাশিয়ার সামনে তুলে ধরেন। এরপরই রাশিয়ার পক্ষ থেকে আমেরিকাকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ল্যাভরভ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আমেরিকা হুমকির ভাষা ত্যাগ করে আলোচনার পথে ফিরলে এই সংকট নিরসন সম্ভব হবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে। এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ভারত নিরন্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতকে যাতায়াতে ছাড় দিলেও দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ভারতের জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওমান ও পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথের ওপর এখন গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে।